ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে দ্বিতীয় দফায় বাড়ল জ্বালানির দাম

ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ১২:২৭:৩১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ১২:২৭:৩১ অপরাহ্ন
ভারতে দ্বিতীয় দফায় বাড়ল জ্বালানির দাম ফাইল ছবি
চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে আবারও বাড়ানো হয়েছে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম। মঙ্গলবার (১৯ মে) দেশটির তেল বিপণন কোম্পানিগুলো প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ পয়সা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফায় মূল্যবৃদ্ধি। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।

এর আগে গত শুক্রবার (১৫ মে) প্রতি লিটারে ৩ রুপি বাড়ানো হয়েছিল জ্বালানির দাম। ওই বৃদ্ধির পর দিল্লিতে পেট্রোলের দাম ৯৪.৭৭ রুপি থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৯৭.৭৭ রুপিতে এবং ডিজেলের দাম ৮৭.৬৭ রুপি থেকে বেড়ে হয় ৯০.৬৭ রুপি।

সর্বশেষ মঙ্গলবারের সংশোধনের পর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম আরও ৮৭ পয়সা বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ৯৮.৬৪ রুপি। একইভাবে ডিজেলের দাম ৯১ পয়সা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৯১.৫৮ রুপি। দিল্লির পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য বড় শহরেও বেড়েছে জ্বালানির দাম। মুম্বাইয়ে পেট্রোলের দাম ৯১ পয়সা বেড়ে হয়েছে ১০৭.৫৯ রুপি প্রতি লিটার এবং ডিজেলের দাম ৯৪ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৪.০৮ রুপিতে।

কলকাতায় সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে পেট্রোলের দাম। সেখানে প্রতি লিটারে ৯৬ পয়সা বাড়িয়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৯.৭০ রুপি। ডিজেলের দাম ৯৪ পয়সা বেড়ে হয়েছে ৯৬.০৭ রুপি। চেন্নাইয়ে পেট্রোলের দাম ৮২ পয়সা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪.৪৯ রুপিতে এবং ডিজেলের দাম ৮৬ পয়সা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৯৬.১১ রুপি।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির অবস্থায় রয়েছে। ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার বড় অংশ আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে যেকোনো মূল্য পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে।

তেল বিপণন কোম্পানিগুলো প্রায় ১০ সপ্তাহ ধরে পুরোনো দামে জ্বালানি বিক্রি করছিল, যদিও আমদানি ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। ক্ষতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছালে গত সপ্তাহে প্রথম দফায় দাম বাড়ানো হয়। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ৩ রুপির বৃদ্ধি কোম্পানিগুলোর ক্ষতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি, ফলে নতুন করে বাড়াতে হলো জ্বালানি তেলের দাম।

পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ায় সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ছোট ব্যবসায়ী, পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িত মানুষ, গণপরিবহন ব্যবহারকারী এবং নিয়মিত ব্যক্তিগত যানবাহন ব্যবহারকারীরা এর সরাসরি চাপ অনুভব করবেন।

জ্বালানির দাম বাড়লে বাস, ট্যাক্সি ও অন্যান্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়। এর ফলে বাজারে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে থাকলে আগামী দিনগুলোতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা বাড়িয়ে তুলবে মূল্যস্ফীতি।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভারতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৯৬-এ নেমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ফলে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি অংশ সাধারণ জনগণের ওপর চাপানো হয়েছে। গত রোববার (১৭ মে) দিল্লি-এনসিআর এলাকায় সিএনজির দামও প্রতি কেজিতে ১ রুপি বাড়ানো হয়। এর আগে শুক্রবার আরও ২ রুপি বাড়ানো হয়েছিল।

বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এনআইএন   


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ